সিলেট জেলা বিএনপির ত্রাণ ও পুনর্বাসন সম্পাদক এবং সিলেট জেলা জাসাসের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জয়নাল আহমদ রানু দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতিচারণ ও নিজের শারীরিক অবস্থার কথা তুলে ধরে আবেগঘন এক বক্তব্য দিয়েছেন।
তিনি বলেন, “দলের জন্য জীবনের ৩৬ বছরের বেশি সময় কাজ করেছি। অসংখ্য নেতাকর্মী তৈরি করেছি। আজ অসুস্থ শরীর নিয়ে শুধু একটি ইচ্ছা—মৃত্যুর আগে যেন আমাদের নেতা তারেক রহমান সাহেবের সঙ্গে একবার দেখা করতে পারি।”
জয়নাল আহমদ রানু জানান, সম্প্রতি গুরুতর অসুস্থ হয়ে ঢাকার এভায়কেয়ার হাসপাতালে -এ চিকিৎসা নেন তিনি। সেখানে তার ওপেন হার্ট সার্জারি সম্পন্ন হয়। হৃদযন্ত্রের একটি ভালভ প্রতিস্থাপন এবং আরেকটি ভালভ মেরামত করা হয়েছে। তার চিকিৎসার দায়িত্বে ছিলেন বিশিষ্ট হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. জুলফিকার হায়দার।
রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ১৯৮৭ সালে বিয়ানীবাজার উপজেলার চারখাই ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে রাজনীতিতে যাত্রা শুরু করেন। পরে ১৯৯১ সালে সিলেট এমসি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি, ১৯৯২ সালে জেলা ছাত্রদলের সদস্য এবং ১৯৯৮ সালে সিলেট জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি সিলেট জেলা বিএনপির ত্রাণ ও পুনর্বাসন সম্পাদক ও জেলা জাসাসের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি আরও জানান, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে গিয়ে তার প্রায় ১৬ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। সিলেট-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ইমরান আহমদ-এর বিভিন্ন জনসভায় তিনি প্রায় ৫০টিরও বেশি বক্তব্য রেখেছেন। অতিরিক্ত বক্তৃতা ও উচ্চস্বরে কথা বলার কারণেই তার হার্টের ভালভ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে চিকিৎসক জানিয়েছেন।
আবেগঘন বার্তায় তিনি বলেন, “দলের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যদি কখনো কাউকে কষ্ট দিয়ে থাকি, তাহলে সবাই আমাকে ক্ষমা করে দেবেন। আমি রাজনীতি করেছি দেশের গরিব মানুষ যেন ভালো চিকিৎসা পায় এবং ভালোভাবে বাঁচতে পারে সেই স্বপ্ন নিয়ে।”
সবশেষে তিনি তার এই বার্তাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান, যাতে তা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর দৃষ্টিগোচর হয়।
Leave a Reply